পুঁজিবাদকে একটি সামাজিক বিবেক দিতে আমাদের করণীয়

(গত ১০ অক্টোবর ২০১৭দি নিউ ইয়র্ক টাইম্স পত্রিকায় অপ-এড মতামত হিসেবে প্রকাশিত ডেভিড বর্নস্টেইন কর্তৃক নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকার)

ডেভিড বর্নস্টেইন । অক্টোবর ১০, ২০১৭

(ছবি) মুহাম্মদ ইউনূস, ক্রেডিট: আনদ্রেয়াস সোলারেস/এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস -- গেটি ইমেজেস

গত ৪০ বছরেরও বেশী সময় ধরে বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস দাবী করে আসছেন যে, দারিদ্রকে চিরতরে নির্মূল করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হচ্ছে মানুষের ভেতরের অব্যবহৃত উদ্যোক্তার শক্তিটাকে অবারিত করে দেয়া। তাঁর মতে, “দারিদ্র দরিদ্র মানুষদের দ্বারা সৃষ্ট হয়নি, আমরা যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরী করেছি এটা তারই ফসল। দরিদ্র মানুষ হচ্ছে বনসাঁই গাছের মতো। আপনি বনের সবচেয়ে বড় গাছটার সবচেয়ে ভাল বীজটা নিলেন, কিন্তু আপনি যদি এটা ফুলের টবে রেখে বড় করতে যান তাহলে এর উচ্চতা হবে মাত্র এক মিটার। দোষ বীজের নয়। সমস্যা হচ্ছে পাত্রের আয়তনের। সমাজ দরিদ্র মানুষকে অন্য সবার মতো বেড়ে ওঠার ভিত্তিটা দেয় না। মূল সমস্যাটা এখানেই নিহিত।”

ইউনূস সম্প্রতি “The World of Three Zeros: The New Economics of Zero Poverty, Zero Unemployment and Zero Net Carbon Emissions”  শিরোনামে  একটি বই লিখেছেন যেখানে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, পুঁজিবাদ একটি সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং তা মানবীয় প্রণোদনা সম্পর্কে একটি ভুল ধারণার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে আছে। তিনি অর্থনীতিতে সামাজিক ব্যবসার একটি অনেক বেশী শক্তিশালী ভূমিকার প্রস্তাব করছেন যাকে তিনি ব্যাখ্যা করছেন “মানুষের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিয়োজিত” “ব্যক্তিগত-মুনাফা বিহীন” কোম্পানী হিসেবে।

৭৭ বছর বয়সেও ইউনূসের মধ্যে শ্লথতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যে কর্মযজ্ঞের ভেতর দিয়ে তিনি এখনো এগিয়ে যাচ্ছেন তার পরিধি বিশাল Ñ বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ফ্রান্স, হাইতি, ভারত, জাপান, উগান্ডা এবং আরো অগণিত দেশে সামাজিক ব্যবসাকে সহায়তা দিয়ে যাওয়া বা সহ-সৃষ্টি করা ।

তাঁর বইতে তিনি লিখেছেন, “সকল সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিগত মুনাফা-কেন্দ্রিক বাজারের উপর আমাদের অবিচল বিশ্বাসটি পরিত্যাগ করতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে যে, অসমতার সমস্যাটি অর্থনীতির বর্তমান কাঠামো ও প্রচলিত কর্মপ্রণালীর ভেতর দিয়ে সমাধান হবার নয়।”

“এ অবস্থাটি কারো জন্যই সুখকর নয়, এমনকি সমাজের উচ্চতম আসনে বসা ব্যক্তিদের জন্যও। সম্পদশালী ও ক্ষমতাবানরা ... তাঁদের চলার পথে সড়কের পাশে গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত মানুষদের থেকে চোখ ফিরিয়ে থাকতে কি পছন্দ করেন?  তাঁরা কি রাষ্ট্রের যন্ত্রগুলো - পুলিশি ক্ষমতা ও জবরদস্তির অন্যান্য ধরনগুলোসহ - সমাজের একেবারে নীচের সারিতে অবস্থিত মানুষদের মধ্যে সৃষ্ট অনিবার্য ক্ষোভকে দমিয়ে রাখতে ব্যবহার করাটা পছন্দ করেন? তাঁরা কি তাঁদের নিজেদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের জন্যও এ-রকম একটা পৃথিবী রেখে যেতে চান?

গত সপ্তাহে তাঁর নতুন বইটি নিয়ে আলোচনা করতে আমি ইউনূসের সাথে বসেছিলাম।

ডেভিড বর্নস্টেইন: বইটি একই সাথে একটি সমাধান চিহ্নিত করার বই ও একটি সতর্কবানী। বিপদটি কোথায়?

মুহাম্মদ ইউনূস: বিপদটি সম্পদ কেন্দ্রীকরণের মধ্যে। বইটিতে আমি অক্সফামের একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছি যেখানে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীর মাত্র আট জন লোকের সম্পদের মোট পরিমাণ পৃথিবীর নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের মোট সম্পদের চেয়ে বেশী। অতি সম্প্রতি একটি পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনে দেখলাম যে,  এই সংখ্যাটি এখন  পাঁচ জনে নেমে এসেছে। এখানে দুশ্চিন্তা করার দু’টি কারণ রয়েছে: সম্পদের কেন্দ্রীকরণ এবং এই কেন্দ্রীকরণের গতি। যখন ৫,০০০ বা ৫০,০০০ লোকের হাতে পৃথিবীর নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মানুষের সম্পদের চেয়ে বেশী সম্পদ কেন্দ্রীভূত ছিল তখন আমরা বিষয়টির দিকে নজর দিইনি। এখন সংখ্যাটি পাঁচ জনে নেমে এসেছে। এক বা দুই বছরের মধ্যে এটি মাত্র একজনে এসে ঠেকবে। আর এটা এই গতিতেই ঘটে চলছে।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটি এমন একটি যন্ত্র যা নিচের দিক থেকে সম্পদ শোষণ করে তা একবারে উপরের তলায় পাঠায়।  এই দোষ একেবারে উপরের তলায় থাকা লোকদের নয়। তারা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তাদের যা করতে বলে তাই অনুসরণ করে: অর্থের পেছনে ছোটা। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় সম্পদ একটা বিশাল মাশরুমের মতো স্বল্প থেকে স্বল্পতর লোকের হাতে একেবারে উপরের দিকে জড়ো হয় - আর এটা এই সরল কারণে যে, যাদের যতো বেশী আছে, তারা ততো বেশী পায়। সম্পদ হচ্ছে চুম্বকের মতো। আপনার একটি ছোট চুম্বক থাকলে আপনি অল্প সম্পদ আকৃষ্ট করতে পারবেন। আপনার কাছে বড় চুম্বক থাকলে আপনি বেশী আকৃষ্ট করতে পারবেন। আর এই সম্পদ মাশরুমটি পারমানবিক মাশরুম মেঘের চেয়েও খারাপ। এটা আমাদের রাজনীতিকে ধ্বংস করবে, আমাদের সমাজকে ধ্বংস করবে, আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে -  কারণ সম্পদের কেন্দ্রীকরণ ক্ষমতারও কেন্দ্রীকরণ ঘটায়। এর ফলে নীচের দিকে প্রবল ক্ষোভ পুঞ্জীভুত হবে আর এই ক্ষোভ সবকিছু এলোমেলো করে দেবে। ব্রেক্সিট এই ক্ষোভেরই ফল। একই জিনিষ সাম্প্রতিক মার্কিন নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এখন জার্মানীর নির্বাচনের দিকে দেখুন। এই মাশরুমটি একটি বাজতে থাকা টাইম বোমার মতো। এই দুশ্চিন্তায় এখন আমাদের বহু রাত অনিদ্রায় পার করতে হচ্ছে।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আপনি বলছেন যে, সমস্যাটি পুঁজিবাদী তত্ত্বের গোড়াতে নিহিত।

মুহাম্মদ ইউনূস: পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটি একটি মৌলিক ক্রুটির, মানুষ সম্পর্কে একটি ভুল ব্যাখ্যার উপর দাঁড়িয়ে আছে। পুঁজিবাদী তত্ত্বে ধরে নেয়া হয় যে, একজন মানুষ সম্পূর্ণভাবে আত্ম-স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত। এটি নিশ্চিতভাবে মানব চরিত্রের প্রকৃত ব্যাখ্যা নয়। মানুষের মধ্যে স্বার্থপরতা আছে, তবে সে একই সাথে একই পরিমানে পরার্থপরও, যদি এর বেশী নাও হয়। অ্যাডাম স্মিথ তাঁর  “The Theory of Moral Sentiments”  গ্রন্থে এ বিষয়ে লিখেছেন। তিনি দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি নৈতিকতা বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। এরপর তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের একটি বই লিখলেন যেখানে আত্ম-স্বার্থ ও “অদৃশ্য হাত”-এর কথা  বললেন। প্রথম বইটির কথা সবাই ভুলে গেল। তিনি বই দু’টিকে কখনো সমন্বিত করেননি।

ডেভিড বর্নস্টেইন: এই দু’টি ধারণাকে সমন্বিত করা হলে ফলাফল কী হবে?

মুহাম্মদ ইউনূস: পুঁজিবাদে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় শুধু এক ধরনের ব্যবসা রয়েছে: অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসা - এবং এটিকে আরো চূড়ান্ত জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে একথা বলে যে, এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় মুনাফা সর্বোচ্চকরণের মাধ্যমে। আমরা যখন মানুষের পরার্থপরতাকে ব্যবসার জগতে নিয়ে আসি তখন আমরা অন্য একটি বিকল্প পন্থার সৃষ্টি করতে পারি। প্রথাগত ব্যবসার পাশাপাশি আমরা অন্য এক ধরনের ব্যবসা চালু করি যা ব্যবসার মধ্য দিয়ে আমাদের পরার্থপরতাকে প্রকাশিত হবার সুযোগ করে দেয়। এই ব্যবসাটির, যাকে আমি সামাজিক ব্যবসা বলছি, একমাত্র লক্ষ্য হবে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা। আমার বইতে এর বহু উদাহরণ রয়েছে।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আমার মনে হয় কোনো কোনো পাঠক ভাবতে পারেন, “আদর্শবাদীর মতো শোনাচ্ছে।”

মুহাম্মদ ইউনূস: প্রকৃতপক্ষে এটা খুবই বাস্তব একটা বিষয়। পুরোপুরি ব্যবসায়িক মনোভাবের ব্যক্তিরা সবসময় আমার কাছে আসছেন এবং সামাজিক ব্যবসা তৈরীতে স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে কাজ করছেন। এদের একটি কানাডিয়ান কোম্পানী ম্যাককেইন ফুড্স। তারা আমাদের সাথে যৌথভাবে সামাজিক ব্যবসা তৈরী করতে চাইলো। পৃথিবীজুড়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মার্কেটের ৬০ শতাংশ তাদের কাছে। আমরা কলম্বিয়ায় তাদের সাথে যৌথভাবে একটি সামাজিক ব্যবসা করছি। পৃথিবীর বহু দেশের মতো কলম্বিয়ার বহু চাষী বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আমাদের সামাজিক ব্যবসাটি যার নাম ক্যাম্পো ভিভো চাষীদেরকে উচ্চ ফলনশীল আলু ও সব্জি চাষ করতে সাহায্য করছে।

এরপর তারা ফ্রান্সে আরেকটি সামাজিক ব্যবসা তৈরী করলো। সেদেশে উৎপাদিত আলুর ২৬ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায় শুধু এ কারণে যে, সেগুলোর আকৃতি ফ্রান্সের ফ্রাই তৈরীর মেশিনগুলোর সাথে সমঞ্জস্য নয়। ম্যাককেইন যখন সামাজিক ব্যবসার চশমাটি চোখে লাগালো তখন তারা নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পেল। তারা বঁ এ ভিভো নামে একটি কোম্পানী সৃষ্টি করলো যা এই আলুগুলো কিনে আলুর স্যুপ তৈরী করতে শুরু করলো। তারা এ কাজে বেকারদের নিয়োজিত করলো। এরপর তারা লক্ষ্য করলো যে, ইউরোপে উৎপাদিত ৩০ শতাংশ সব্জিই ফেলে দেয়া হয় শুধু এ কারণে যে, সেগুলো সুপারমার্কেটের উপযোগী আকৃতির নয়। এই সব্জিগুলোকে বলা হয় “কুৎসিত সব্জি”। সামাজিক ব্যবসা কোম্পানীটি এই ফেলে দেয়া সব্জিগুলো কিনে নিয়ে সেগুলো টুকরো টুুকরো করে ও রন্ধনের উপযোগী করে ছোট ছোট প্যাকেটে বিক্রি করে থাকে। এ থেকে তারা টাকা কামাতে পারতো, কিন্তু তারা অন্য সিদ্ধান্ত নিলো - তারা এই ভালো স্যুপ ও সব্জি কম দামে বিক্রি করছে। ব্যক্তিগত মুনাফা তাদের উদ্দেশ্য নয়।

ডেভিড বর্নস্টেইন: প্রচলিত ব্যবসাগুলো সব সময়েই সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে। এ থেকে ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যটা বাদ দিলে আমরা কী পাচ্ছি?

মুহাম্মদ ইউনূস: আপনি যদি ব্যক্তিগত মুনাফার লক্ষ্যটা বাদ দেন এবং শুধু সমস্যা সমাধানের কথা ভাবেন, তাহলে আপনি হঠাৎ করেই অনেক সম্ভাবনা দেখতে পাবেন যা আগে আপনার চোখে পড়েনি। যদি পরার্থপরতা ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পেছনের চালিকা শক্তি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রযুক্তি হঠাৎ করেই পৃথিবীকে বদলে দেবার একটি প্রচন্ড শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। তখন চাকরী কেড়ে নেবার বদলে মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তি আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স গড়ে উঠবে। আপনি যদি মানব চরিত্রের পরার্থপর দিকটির দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেন তাহলে অর্থনীতির পুরো চেহারাটাই পাল্টে যাবে।

ডেভিড বর্নস্টেইন: এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে?

মুহাম্মদ ইউনূস: বিভিন্ন দিক থেকে। দানশীলতার অর্থ একটি বড় উৎস হতে পারে। অনেকেই এখন সামাজিক ব্যবসা তহবিল সৃষ্টি করছেন। ব্যক্তিগত সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। হেজ ফান্ড বা ইন্স্যুরেন্স ফান্ড, পেনশন ফান্ড - এই তহবিলগুলো তাদের ১ শতাংশ অর্থ সামাজিক ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে পারে যেখান থেকে কোনো ব্যক্তিগত মুনাফা প্রত্যাশা করা হবে না। এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সন্নিবেশিত হতে পারে।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আগ্রহী ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কী?

মুহাম্মদ ইউনূস: তাদেরকে বলি, চেষ্টা করে দেখুন। আপনাদের সম্পদ বা কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের অর্থ বা ফাউন্ডেশনের অর্থের একটি অংশ সামাজিক ব্যবসায়ে ব্যবহার করুন। আপনাদের কেউ ব্যবসাগুলোর মধ্যে একটি ডিজাইন কম্পিটিশন আহ্বান করতে পারেন যাঁরা তাদের পছন্দের কোনো একটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চান। এখানে অনেক ধরনের ব্যবসায়িক আইডিয়া পাওয়া পাবে। এদের মধ্য থেকে একটি বা দু‘টি আইডিয়া নিয়ে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন। কোনো প্রচারণার উদ্দেশ্যে নয়। নিশ্চিত করতে হবে যে এটা প্রকৃতই মানুষের কোনো সমস্যার সমাধান করছে। এতে কাজ করতে গিয়ে আপনি নিজের সর্ম্পকেও অনেক কিছু জানতে পারবেন।

ডেভিড বর্নস্টেইন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ আমেরিকায় আপনার কাজ কেমন চলছে?

মুহাম্মদ ইউনূস: আমরা ২০০৮ সালে গ্রামীণ আমেরিকার কাজ শুরু করি। আগামী বছরের শেষে গ্রামীণ আমেরিকা ১ লক্ষ ঋণগ্রহীতাকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেবার মাইল ফলক অতিক্রম করবে, যার আদায় হার হবে প্রায় ১০০ শতাংশ। আগামী ১০ বছরের মধ্যে গ্রামীণ আমেরিকা তার শাখার সংখ্যা দ্বিগুণ করতে - ২০ থেকে ৪০-এ উন্নীত করতে চাচ্ছে। শাখার সংখ্যা দ্বিগুণ করে ২০২৮ সালের মধ্যে গ্রামীণ আমেরিকা ৫ লক্ষ ঋণগ্রহীতার কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। পর্যাপ্ত তহবিল পাওয়া গেলে ১০ লক্ষ ঋণগ্রহীতার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংকিং লাইসেন্স থাকলে তাহলে অন্য কারো কাছ থেকে ডিপোজিট গ্রহণ করতে পারতো, বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক যেমনটা করে থাকে, আর সেক্ষেত্রে এটার সম্প্রসারণ তহবিলের প্রাপ্যতার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতো না।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আপনি তরুণদের দেখছেন একটি “বৃহৎ শক্তি” হিসেবে যা পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে। তরুণরা কেন?

মুহাম্মদ ইউনূস: তাদের মন উন্মুক্ত। তারা পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটা টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর নয়। তারা সাহসী চিন্তা করতে পারে। তাদের প্রচুর শক্তি আছে, তারা প্রযুক্তি বোঝে, এবং তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করার একটা প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আপনি শিক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে দেখতে চান?

মুহাম্মদ ইউনূস: আমি চাই তারা তাদের পাঠ্যসূচিতে এই ধারণাটা নিয়ে আসুক যে, ব্যবসা মানেই ব্যক্তিগত মুনাফা সর্বোচ্চকরণ নয়। আপনি এটা এমনভাবে তৈরী করতে পারেন যা মানুষের সমস্যার সমাধান করবে এবং একই সাথে আপনি আপনার খরচটা তুলে আনতে পারবেন এবং আপনার অর্থ পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন। তাদেরকে সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ব্যবসা ডিজাইন করার অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া যেতে পারে: কীভাবে একটি গ্রামে সুপেয় পানি নিয়ে যাওয়া যায়; কীভাবে দুর্গম কোনো জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা, সাক্ষরতা, গৃহায়ন বা স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে যাওয়া যায়; কীভাবে একটি ঘনবসতি বস্তিতে স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, ভালো সড়ক পৌঁছে দেয়া যায়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এখন সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করছে এবং এগুলো শেখাচ্ছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রচলিত এম.বি.এ. ডিগ্রী দেয়ার সাথে সাথে সামাজিক এম.বি.এ. কোর্স অফার করা উচিত।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আপনি পৃথিবী জুড়ে যারা ব্যবসা সম্পর্কে প্রচলিত চিন্তাধারাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করছে তাদেরকে আকৃষ্ট করছেন। আপনি তাদের মধ্যে কোন বিষয়গুলোতে মিল খুঁজে পান?

মুহাম্মদ ইউনূস: উত্তেজনা। সামাজিক ব্যবসার এই পোকা আপনাকে একবার দংশন করলে আপনি বসে থাকতে পারবেন না। টাকা রোজগার করারটা যদি সুখের হয়, তাহলে অন্যদের সুখী করাটা পরম সুখের।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আগামী ১০ বছর পরের দিকে তাকালে আপনি কী দেখতে পান?

মুহাম্মদ ইউনূস: আমি আশা করছি যে, বৈশ্বিক পর্যায়ে অর্থনীতির অন্তত ১ শতাংশ হবে সামাজিক ব্যবসা অর্থনীতি। এটা নিশ্চিত করা গেলে বুঝতে হবে পোকাটা দংশন করেছে। এরপর শুধু এগিয়ে যাবার পালা।

ডেভিড বর্নস্টেইন: আপনি কি মনে করেন যে, আপনি যদি সম্পদ অর্জনকেই আপনার লক্ষ্য স্থির করতেন তাহলে আপনি খুব ধনী হতে পারতেন?

মুহাম্মদ ইউনূস: হয়তোবা। আমি অনেকগুলো ব্যবসা তৈরী করেছি। কিন্তু পৃথিবীর কোথাও আমার সৃষ্ট কোনো  ব্যবসায়ে আমার একটা শেয়ারও নেই। কিন্তু এতে আমি কিছুই হারাইনি। আমি যেসব বিষয় নিয়ে ভাবি আমি সেগুলো নিয়ে কাজ করছি, এবং মানুষ মনোযোগ দিচ্ছে, শিখতে ও শুনতে চাচ্ছে, এবং সবশেষে, জীবনের লক্ষ্যটাই বা কী? কোটি কোটি টাকা কামানো? পৃথিবীর সেই পাঁচ জন ব্যক্তি যাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ পৃথিবীর নিচের দিকের ৫০ শতাংশ মনুষের মোট সম্পদের চেয়ে বেশী Ñ তাঁদের একেকজনের সম্পদের পরিমাণ ৭৫ কোটি মানুষের সম্পদের সমপরিমাণ! এতো সম্পদ দিয়ে আপনি কী করবেন? খাবেন? বাড়ী করবেন? গান শুনবেন? দান করবেন? আমার কাছে, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জগতে সুখী হবার, জীবনকে উপেভোগ করার সবচেয়ে সৃষ্টিশীল উপায় হচ্ছে সামাজিক ব্যবসা।

ডেভিড বর্নস্টেইন একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর “How to Change the World”  ২০টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি  “The Price of A Dream: The Story of the Grameen Bank”  গ্রন্থের প্রণেতা এবং “Social Entrepreneurship: What Everyone Needs to Know”   গ্রন্থের সহ-প্রণেতা। এছাড়াও তিনি Solutions Journalism Network -এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা যা বিশেষভাবে সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রণয়নে সহায়তা দিয়ে থাকে।



 



Giving Capitalism a Social Conscience

Source: https://www.nytimes.com/2017/10/10/opinion/giving-capitalism-a-social-conscience.html
Published Date: OCT. 10, 2017


Opinion

Giving Capitalism a Social Conscience

David Bornstein | FIXES OCT. 10, 2017

Muhammad Yunus Credit Andreas Solaro/Agence France-Presse — Getty Images

For more than 40 years, Muhammad Yunus, the Bangladeshi founder of the Grameen Bank and recipient of the 2006 Nobel Peace Prize , has been asserting that the most powerful way to eradicate poverty is to unleash the untapped entrepreneurial capacity of people everywhere. “Poverty is not created by poor people,” he says. “It’s created by the system we built. Poor people are like a bonsai tree. You take the best seed from the tallest tree in the forest, but if you put it in a flower pot to grow, it grows only a meter high. There’s nothing wrong with the seed. The problem is the size of the pot. Society doesn’t give poor people the space to grow as tall as everybody else. This is the crux of the matter.”

Yunus has recently written a new book, “ A World of Three Zeros: The New Economics of Zero Poverty, Zero Unemployment, and Zero Net Carbon Emissions ,” in which he argues that capitalism is in crisis and remains moored in a flawed conception of human motivation. He proposes a far more robust role in the economy for “ social businesses ,” which he defines as “non-dividend” companies “dedicated to solving human problems.”

At 77, Yunus shows no signs of slowing down. He reports on an astonishing array of work he has been involved in — supporting and codeveloping social businesses (often in partnership with large corporations) in Bangladesh, Brazil, Colombia, France, Haiti, India, Japan, Uganda and numerous other countries.

“We need to abandon our unquestioning faith in the power of personal-profit-centered markets to solve all problems and confess that the problems of inequality are not going to be solved by the natural working of the economy as it is currently structured,” Yunus writes.

“This is not a comfortable situation for anyone, including those who are on top of the social heap at any given time. Do the wealthy and powerful … like having to avert their eyes from the homeless and hungry people they pass on the street? Do they enjoy using the tools of the state — including its police powers and other forms of coercion — to suppress the inevitable protests mounted by those on the bottom? Do they really want their own children and grandchildren to inherit this kind of world?”

I sat down with Yunus last week to discuss his new book.

David Bornstein: This is both a solutions book and a warning call. What is the danger?

Muhammad Yunus: Wealth concentration. In the book, I cite an Oxfam report that says that eight people own more wealth than the bottom 50 percent of the world. Recently, I saw a newspaper report that said now it’s just five people . There are two things to be concerned about: the concentration of wealth and the increasing speed of this concentration. We didn’t notice it when 5,000 people or 50,000 people owned more wealth than the bottom half of the world. Now it’s five people. In a year or two it will be just one person. This is the speed at which it is happening.

The capitalist system is a machine which sucks up wealth from the bottom to send it to the top. It’s not the fault of individuals at the top. They follow what the system asks them to do: chase money. But in the process, wealth at the top grows like a giant mushroom owned by fewer and fewer people — for the simple reason that the more they have, the more they get. Wealth is a magnet. If you have a little magnet, you attract a little wealth. If you have a big magnet, you attract more. And this wealth mushroom is worse than the atomic mushroom cloud. It will destroy our politics, it will destroy our society, it will destroy our economy — because concentration of wealth goes with concentration of power. This will generate tremendous anger at the bottom, and that anger will disrupt everything. Brexit is the outcome of this anger. Same with the recent U.S. election. Now see the German election. This mushroom is a ticking time bomb. We need to spend many sleepless nights over it.

D.B.: You say that this problem lies at the root of capitalist theory.

M.Y.: The capitalist system is based on a fundamental flaw, on misinterpretation of human beings. In capitalist theory, it is assumed that man is entirely driven by self-interest. That’s definitely not the description of a real human being. Human beings are selfish, and at the same time they are equally selfless, if not more. They want to help others. Adam Smith wrote this in “ The Theory of Moral Sentiments .” He was a professor of philosophy. He was interested in morality. Then he wrote a completely different book that talked about self-interest and the “invisible hand.” The first book was forgotten. He never integrated the two books.

D.B.: If we integrated these ideas, what would be the implications?

M.Y.: Capitalism is all about options. But in the economic system, there is only one kind of business: business to make money — and it’s made more extreme by saying it produces best results when one maximizes profit. When we introduce the selflessness of people in the business world we get another option. Alongside conventional business, we add another type of business that will allow us to express our selflessness through business. The exclusive goal of this business, which I call social business, is to solve people’s problems. My book is full of examples of this.

D.B.: I suspect some readers will think, “This sounds idealistic.”

M.Y.: Actually it’s very practical. Hard-nosed business people come to me all the time and volunteer to create social businesses. Like the Canadian company McCain Foods. They wanted to create a social business jointly with us. They have 60 percent of the French fry market in the world. Jointly we are doing a social business in Colombia. Many Colombian farmers struggle to make a living, like in many other countries. Campo Vivo , our social business, helps farmers grow potatoes and vegetables with high yields.

After that, they created another social business in France, where 26 percent of potatoes are wasted because they’re of a wrong shape for the French fry-making machines. Once McCain put on social business glasses, they started seeing new possibilities. They created Bon et Bien to buy up these potatoes and produce potato soup. They hire youth who have been unemployed. Then they noticed that 30 percent of vegetables grown across Europe are thrown away because they don’t have the right shape for supermarkets. They are called “ ugly vegetables .” The social business company buys up these throwaway vegetables and chops them up, making small packages of ready-to-cook vegetables. They could make money from this, but they decided not to — to make the soup and vegetables good and cheap.

D.B.: Ordinary businesses solve problems all the time. What do we gain by removing the profit motive?

M.Y.: If you remove the personal profit motive and think only about solving problems, you will suddenly see lots of possibilities that you didn’t see before. If selflessness becomes the driving force behind development of technology instead of personal profit, suddenly technology transforms into an enormously powerful force to change the world very rapidly. Then artificial intelligence will be developed to solve health care problems of people instead of taking away jobs . If you focus on the selfless part of human beings, the whole economy changes.

D.B.: Where’s the financing to come from?

M.Y.: From many directions. Charity money can be a major source. Many are creating social business funds. Personal wealth can be an important source. Hedge funds or insurance funds, pension funds, could take 1 percent of their fund and invest it in social business, with no expectation of personal profit. You’d release enormous amounts of money.

D.B.: What do you say to business leaders who are interested?

M.Y.: Try it out. Use part of your wealth or corporate social responsibility money or foundation money to invest in social businesses. One may convene a design competition for businesses that address one of the sustainable development goals that you care about. You’ll get lots of business ideas. Pick one or two and start investing in them. Not for publicity purposes. Make sure it really solves people’s problems. You’ll also learn a lot about yourself by doing it.

D.B.: How is your work in the United States, Grameen America, going?

M.Y.: We started in 2008. By the end of next year, Grameen America will have lent almost $1 billion to 100,000 borrowers, with repayment remaining nearly 100 percent. Over the next 10 years, Grameen America would like to double from 20 to 40 branches. Even with that modest growth, it can reach 500,000 borrowers by 2028. If more generous funding were available, it could reach a million borrowers. If it had a limited banking license, it could take deposits like we do in the Grameen Bank and its expansion will not be limited by availability of funds.

D.B.: You see young people as one of the “megapowers” that can transform the world. Why youth?

M.Y.: Their minds are open. They are not so protective of the capitalist system. They can think boldly. They have a lot of power, they understand technology, and they have a hunger to do something significant.

D.B.: What would you like to see schools do?

M.Y.: Bring into the curriculum the idea that business doesn’t have to be profit maximizing. You can design it to solve people’s problems while you recover your costs and recycle your money. They can have assignments to design businesses to solve problems: how to bring clean water to a village; how to bring education, literacy, housing or health care to a remote community; how to make a crowded slum a decent place where there is health care, education, good roads. There are many universities setting up social business centers and teaching this. Every business school should be offering both conventional M.B.A.s and social M.B.A.s.

D.B.: You attract people around the world who are challenging traditional ideas about business. What do you find they have in common?

M.Y.: Excitement. Once you’re bitten by this social business bug, you can’t stop. If making money leads to happiness, making other people happy leads to super-happiness.

D.B.: When you look ahead 10 years from now, what do you envision?

M.Y.: I’m guessing or hoping that at least 1 percent of the economy will become a social business economy at the global level. If you can establish that, the bug will have bitten. The only way will be up.

D.B.: Do you think you could have become very wealthy if you’d pursued that goal?

M.Y.: Could be. I’ve created a lot of businesses. But I don’t own a single share in any company anywhere in the world. I’m not missing anything. I’m doing things that I care about, and people pay attention, people want to learn and listen, and, after all, what is life all about? To make billions of dollars? For each of those five people who hold more wealth than the bottom 50 percent of the world, their wealth is equivalent to the wealth of 750 million people! What do you do with that? Eat? Have homes? Listen to music? Give it away? For me, in the world of economic activity, social business is the most creative way to be happy, to enjoy life.

David Bornstein is the author of " How to Change the World ," which has been published in 20 languages, and " The Price of a Dream: The Story of the Grameen Bank ," and is a co-author of " Social Entrepreneurship: What Everyone Needs to Know ." He is a co-founder of the Solutions Journalism Network , which supports rigorous reporting about responses to social problems.

Source: https://goo.gl/W4Cgfz

'We are all entrepreneurs': Muhammad Yunus on changing the world, one microloan at a time

Published in: www.theguardian.com
Published Date: Wednesday 29 March 2017 03.56 BST
Source: https://www.theguardian.com/sustainable-business/2017/mar/29/we-are-all-entrepreneurs-muhammad-yunus-on-changing-the-world-one-microloan-at-a-time


The Nobel peace prize laureate will be in Australia to discuss why fostering entrepreneurship is even more important in the age of automation

Muhammad Yunus: ‘There are two kinds of businesses in the world. One is a business which makes money, and the other solves the problems of the world.’ Photograph: Ben Hider/Getty Images for Concordia Summit

Muhammad Yunus: ‘There are two kinds of businesses in the world. One is a business which makes money, and the other solves the problems of the world.’ Photograph: Ben Hider/Getty Images for Concordia Summit

Muhammad Yunus, the Bangladeshi economist, microfinancing pioneer and founder of the grassroots Grameen Bank, has not been resting on his laurels since wining the Nobel peace prize in 2006.

For one thing, he has expanded his concept to developed countries via Yunus Social Business, founded in 2011. “Globally, the issues are the same,” he says. “In terms of poverty, of welfare recipients, of housing problems, water problems, in terms of healthcare problems. These are common problems, rich country or poor country. Australia has poor people, America has poor people, Europe has poor people.”

In the past year, he has begun establishing Yunus Social Business centres at universities around the world, including at Australia’s University of New South Wales and Latrobe University. Two centres are slated to open in New Zealand this year.

“Young people have to know about it,” he says. “They should learn that there are two kinds of businesses in the world. One is a business which makes money, and the other solves the problems of the world. It’s an academic exercise and what they do with that in real life will depend on them, what kind of life they would like to choose.”

Yunus is speaking to the Guardian on the eve of a trip to Melbourne for the Australasian Social Business Forum. The event is titled “Positive Disruption: Lead the Change”.

Imagination is power: Muhammad Yunus

 

by Nicole Richards,  March 14, 2017

Nobel Laureate Professor Muhammad Yunus on why human beings are born to be entrepreneurs; philanthropy as social business investor; achieving ‘super happiness’; sharing failure; challenging the financial system; combatting inequality and more. 

“Well hello!” exclaims Professor Muhammad Yunus happily as he re-positions his headphones and peers into the Skype screen.

“It’s good to see you!” he continues, waving as if we were old friends.

Perhaps effusive greetings are standard practice for Nobel Peace Prize winners—I figure it would take a lot to dim the light of someone whose humanitarian efforts have taken them all the way to Oslo. Still, I’m relieved he’s in a jovial mood, despite the tech issues in Bangladesh that have delayed our scheduled start time.

Muhammad Yunus’ efforts as a pioneer of microfinance and social business have been recognised globally. At last count, that includes 112 awards from 26 countries and 55 honorary degrees. His Nobel Peace Prize (2006) was followed by the Presidential Medal of Freedom awarded by President Obama in 2009 and the Congressional Gold Medal (2010).

In 2012 Fortune magazine named him “one of the greatest entrepreneurs of our time.”

Promoting social entrepreneurship is the key reason for Professor Yunus’ upcoming visit to Australia, culminating in the Australasian Social Business Forum in Melbourne on April 6.

As you’ll glean from the conversation that follows, the vision of Muhammad Yunus remains vast. His wish list is as ambitious as ever and his commitment to imagining and achieving social change is steadfast.

“Existing banks serve to rich, not to poor people”

Published by: The AsiaN

Published Date: 24 November, 2016

Sorece: http://www.theasian.asia/archives/97234


Prof. Muhammad Yunus is an extraordinary person who created a totally different perspective for social inequality. He is an intellectual, benevolent, banker, social entrepreneur, economist, and civil society leader as well as being an inventor of vital economic terms for poor people. His great initiative, the Grameen Bank helped poor people and gave a chance to them to be investors. In 2006, the bank and its founder, Muhammad Yunus, were jointly awarded with the Nobel Peace Prize because of his efforts for the social development.

Mehmet Fatih Oztarsu, The MagazineN reporter, made an interview with him for our valuable readers.

1. Mr. Yunus, you have been inspired by the Bangladesh famine of 1974 and you followed a creative way for your rural economic program. Can you tell us about that process?

I was shocked by the famine of 1974. I was teaching as an economics professor at Chittagong University in Bangladesh in the year 1974. I felt what teach in the classroom is all fairy tales, it has no relevance to the reality of the people who were dying of hunger. I felt that I am a useless person having no usefulness to other people. I wanted to make myself useful in some ways to the people in the village next door. That’s when I started visiting the village almost every day to see if can make myself useful to at least one person each day. In the process, I got to know the people in the village. I keep seeing the horrible system of loan sharking which takes away everything poor borrowers got by exploitative conditionality. In order to protect the poor, I started lending money myself. People loved it. I was happy because I could see my work was being appreciated by the poor people. This was the beginning of my lending money to the poor people. Since much more wanted to borrow money from me I transformed it into a bank in 1983. We called it Grameen Bank, or village bank.

hard-extreme.com tellyseries